শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রধান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশের শ্রম ব্যবস্থায় বিদ্যমান কাঠামোগত বৈষম্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছেন, ‘বাংলাদেশের শ্রম ব্যবস্থার ভিত্তি খুবই দুর্বল। যেখানে প্রায়ই শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এখনো ৯০ শতাংশের বেশি শ্রমিক আইনি সুরক্ষার বাইরে রয়ে গেছেন, যার মধ্যে অনেক কায়িক শ্রমবিহীন পেশাজীবীরাও অন্তর্ভুক্ত।’
গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অর্থনীতি গবেষণা কেন্দ্র (ইএসসি) আয়োজিত ‘ষষ্ঠ বাংলাদেশ অর্থনীতি সম্মেলন’ এর দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচার থিয়েটার ভবনের ৩০১ নম্বর কক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় শ্রম অর্থনীতিবিদ অনন্যা রায়হান ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার মোহাম্মদ অভি হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
শ্রম পরিস্থিতির বিভিন্ন দিক, শ্রমিকদের সুরক্ষা, অন্তর্ভুক্তি ও কণ্ঠস্বরের অভাবের কথা উল্লেখ করে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও নীতিগত সমর্থন চেয়ে সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘শ্রমিকদের স্বার্থ উপেক্ষা করে এমন নীতিগুলোর বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাঁড়ানো প্রয়োজন। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গঠনে শ্রমিক শ্রেণীর অংশগ্রহণমূলক ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে। শ্রমিকদের প্রতি কেবল সহানুভূতি না দেখিয়ে তাদের মর্যাদার ন্যারেটিভ পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে।’
আলোচনা সভায় বক্তারা বাংলাদেশের শ্রমবাজারের বিভিন্ন দুর্বল দিক এবং শ্রমিকদের অধিকার ও স্বার্থের প্রতি অবহেলার চিত্র তুলে ধরেন। তারা মনে করেন, এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় একটি সমন্বিত ও জোরালো পদক্ষেপ নেয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া বাংলাদেশের শ্রমবাজারের স্থিতিশীলতা ও শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষায় সামষ্টিক দর কষাকষি ব্যবস্থা, সামাজিক সুরক্ষা এবং ন্যায্য ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তাও তিনি তুলে ধরেন।